বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অসংখ্য বীর সন্তানের আত্মত্যাগে রচিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। সেই অমর বীরদের অন্যতম হলেন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবীর হোসেন। ১৬ অক্টোবর দিনটি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মানুষের জন্য একদিকে গভীর শোকের, অন্যদিকে গৌরবের এক স্মরণীয় দিন।
১৯৭১ সালের এই দিনে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নের জয়রামপুরে সংঘটিত হয় এক তুমুল যুদ্ধ। বীর প্রতীক গোলাম ইয়াকুবের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহস ও বীরত্বের পরিচয় দেন। যুদ্ধে প্রায় ১০০ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়, যা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় সাফল্য।
এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে শহীদ হন এক তরুণ বীর, আবীর হোসেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে দেশমাতৃকার টানে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। যুদ্ধ চলাকালীন কৌশল পরিবর্তনের মুহূর্তে শত্রুর গুলিতে তার বাম উরু ও পেটে আঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সেখানেই শহীদ হন। তার এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শহীদ আবীর হোসেনের পিতা ছিলেন মৃত মনছুর মোল্যা, গ্রামের নাম কাশিপুর। তার নাম বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার মতো অসংখ্য তরুণের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা।
শহীদ আবীরের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ১৯৮৮ সালে মহম্মদপুর উপজেলা সদরে “শহীদ আবীর সাধারণ পাঠাগার” নামে একটি পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ সেটি হারিয়ে যেতে বসেছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়াও জয়রামপুর যুদ্ধক্ষেত্রে জয়রামপুর সপ্তগ্রাম সম্মিলনী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে নির্মিত হয়েছে “মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ”, যা সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
জয়রামপুর যুদ্ধ শুধু একটি যুদ্ধই নয়, এটি ছিল সাহস, আত্মত্যাগ এবং দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শহীদ আবীর হোসেনের মতো বীরদের আত্মদান আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে এবং স্বাধীনতার মূল্য উপলব্ধি করতে শেখায়।
আজকের এই দিনে শহীদ আবীর হোসেনসহ সকল বীর শহীদদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র প্রণাম। তাদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না, তারা বেঁচে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল।
▪️লেখক
শিমুল পারভেজ
সম্পাদক, পজিটিভ নহাটা
